নাসিক ২২নং ওয়ার্ডে জিম্মিদশা সৃষ্টি করে রামরাজত্ব চালাচ্ছে খান মাসুদ। সম্প্রতি, বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভূমিদস্যুতাসহ সকল ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ২২নংওয়ার্ড। অনেক আগে থেকেই সন্ত্রাসের জনপদখ্যাত এই ওয়ার্ডটির স্ব-ঘোষিত নিয়ন্ত্রক কথিত ‘যুবলীগ নেতা খান মাসুদ। একসময় যিনি বন্দর থানা ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। খান মাসুদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নাসিকের কোটপাড়া, হাফেজীবাগ,
ঠাকুরবাড়ি, নুরবাগ, রাজবাড়ি, বাবুপাড়া, আমিন আবাসিক এলাকা, লেজারাসসহ পুরো ২২নং ওয়ার্ড।
এছাড়াও পুরো বন্দর ও শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পার জুড়েই রয়েছে খান মাসুদ নিয়ন্ত্রণাধীন অসংখ্য কিশোরগ্যাং গ্রুপ । যাদের দিয়ে দিনের পর দিন সমানতালে বন্দরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে খান মাসুদ চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা,অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা, ভূমিদস্যুতাসহ সকল ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। খান মাসুদের
নামে বন্দর থানায় রয়েছে বেশ ক'টি মামলা। যার মধ্যে,পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি মামলা অন্যতম। এতোকিছুর পরেও রহস্যজনক কারণে সম্প্রতি
নিরব ভূমিকা পালন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও বন্দর থানা পুলিশের দাবি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে বন্দরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক রাতেই ২ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে কথিত যুবলীগ নেতা খাঁন মাসুদ ও তার সহযোগী ডালিম হায়দার গংদের বিরুদ্ধে। ১৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে বন্দর খেয়াঘাটস্থ অটোষ্ট্যান্ডের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনা আমিন আবাসিক এলাকা যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী মাসুম আহম্মেদ ও লুৎফর রহমান গুরুত্বর আহত হয়েছেন।
আহত উভয় ব্যবসায়ী বন্দর থানায় পৃথক ২টি অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন বন্দর খাঁনবাড়ি এলাকার খাঁন মাসুদ (৪১), তার ডান হাত খ্যাত ছালেহ নগর এলাকার ডালিম হায়দার ওরফে ঠাকুর, হাজীপুর এলাকার পাভেল (৩২), র্যালী আবাসিক এলাকার গোলাম সারোয়ার সবুজ (৪২), সুজন ওরফে ঘাউরা সুজন (৪৫) ও চরধলেশ্বরী এলাকার পারভেজ ওরফে কসাই পারভেজ(৩২)।
ভুক্তভোগীরা জানায়, তারা উভয়ই বেশ কিছুদিন যাবৎ একই সাথে রাজনীতি ও ব্যবসা করে আসছে। এদেশে খাঁন মাসুদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা প্রায়সময়ই তাদের সক্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নানা প্রপাগাণ্ডা ও কুৎসা রটাতো। আমরা সবসময় তাদের এবিষয়ে এড়িয়ে চলেছি। কিন্তু ডালিম হায়দারের প্ররোচনায় সন্ত্রাসী খাঁন মাসুদ কোনভাবেই আমাদের ভালো কাজকে সহ্য করতে পারেনা। এরই জের ধরে আমরা নারায়ণগঞ্জ থেকে বন্দর ঘাট হয়ে বাড়িতে ফেরার পথে খাঁন মাসুদের নির্দেশে উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
জানা গেছে, এ হামলায় ডালিম হায়দারের হাতে থাকা রামদা এর আঘাতে মাসুমের মাথায় মারাত্মক জখম হয়। এবং বাকিদের লাঠিসোটার আঘাতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম হয়। এছাড়াও লুৎফরের দাবি খাঁন বাহিনী'র হাতে পিস্তল ছিলো ডালিম হায়দার ঘটনাস্থলে পিস্তল প্রদর্শন করে। পিস্তলের উলটো দিক দিয়ে তিনি তার মুখে সজোরে আঘাত করে লুৎফরের ঠোঁট থেঁতলে দেয়। এসময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামীরা হত্যা করে শীতলক্ষ্যায় ভাসিয়ে দিবে বলে হুমকি দিয়ে সটকে পড়েন।
এবিষয়ে বন্দর থানার অফিসার্স ইনচার্জ আবুবকর সিদ্দিক জানায় অভিযোগর সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন